শনিবার ৩১ জুলাই ২০২১

১৫ শ্রাবণ ১৪২৮

ই-পেপার

Shahinul Islam Sagor

প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই ২৯,২০২০, ০৩:১২

কাবুলিওয়ালা ডট কম : একটি অনলাইন রিটেইল কোম্পানি

সম্মানিত ক্রেতা সাধারনকে রাজকীয় সেবা প্রদান, সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রয় এবং তাদের দোরগোড়ায় ঝামেলামুক্ত পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিল একটি স্বপ্নের যার অধ্যায় আজকের এই - "কাবুলিওয়ালা"। "কাবুলিওয়ালা" - একটি অনলাইন ভিত্তিক খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান যেখানে সম্মানিত গ্রাহক সাধারণকে রাজা বা রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এই মূলনীতির উপর ভিত্তি করেই তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত। ঢাকা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে সারা দেশে এর বিস্তার ঘটিয়েছে। ঢাকা মেট্রোর অভ্যন্তরে তাদের রয়েছে নিজস্ব ডেলিভারি ব্যবস্থা। এছাড়াও কুরিয়ারের মাধ্যমে বর্তমানে সারাদেশে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত। ঢাকায় বর্তমানে তাদের একটি ষ্টোর এবং তিনটি ছোট বড় ওয়ারহাউস আছে তাছাড়া সিলেটে রয়েছে একটি হাব পয়েন্ট। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের শতাধিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কাবুলিওয়ালার সাথে সরাসরি যুক্ত রয়েছে। এছাড়াও, কাবুলিওয়ালা তুরস্ক ভিত্তিক বিখ্যাত পাস্তা ব্র্যান্ড "সান্তা সোফিয়া লা পাস্তা" এবং সুইজারল্যান্ডের দ্বারা নির্মিত বিলাসবহুল ঘড়ির ব্র্যান্ড "কার্নিভাল" এর অনুমোদিত অনলাইন স্টোর । তাদের ভিশন হচ্ছে বিশ্বব্যাপী নিরবিচ্ছিন্নভাবে লোকজনকে পণ্য বিক্রয় এবং বিক্রয়োত্তর সেবাদানের মধ্য দিয়ে রাজকীয়তা অনুভব করানো এবং মানুষের মধ্যে রিটেইল শপিং এর ক্ষেত্রে প্রযুক্তি নির্ভর চিন্তা ও এর বাইরেও কিছু ভাবার অনুপ্রেরণা জোগানো। আর সেই লক্ষ্যে কাবুলিওয়ালার সকল কর্মী সর্বদা সেবা প্রদানে অবিরাম কাজ করে চলছে। এই অনলাইন রিটেইল কোম্পানির উদ্দেশ্য ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী বিস্তার ঘটানো এবং যা এটিকে অদূর ভবিষ্যতে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিষ্ঠানে পরিনত করবে। কাবুলিওয়ালা প্রতিষ্ঠিত হওয়া্র পেছনের গল্পের সাথে কাবুলের পশতুন বণিকদের ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যবসা করার গল্পের মিল রয়েছে। পশতুন বণিকরা মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাদের পণ্য বিক্রি করত আর কাবুলিওয়ালা বর্তমান যুগে ই-কমার্স এর মাধ্যমে ঠিক সেই কাজটি করে থাকে, যেখানে আপনাকে কোথাও ভ্রমন করতে হবে না, কাবুলিওয়ালা নিজে ভ্রমন করে আপনার দোরগোড়ায় আপনার প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিবে। বাজারের সেরা পণ্যটি সম্মানিত ক্রেতা সাধারণের নিকট ঝামেলামুক্ত ভাবে দ্রুততম সময়ে পৌঁছে দিতে তারা বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্যেই ‘এক ক্লিক দূরে ' এই কথাকে তারা তাদের ব্যবসার মূল স্লোগান হিসেবে অভিহিত করে। কাবুলিওয়ালা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মোঃ জাবেদ হোসেন এবং  তাঁর  ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বন্ধু। মোঃ জাবেদ হোসেন বাংলাদেশের একজন তরুণ উদ্যোক্তা এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সমাজসেবক। যিনি একই সাথে সামাজিক উদ্যোক্তাদের যুব প্রতিষ্ঠান   (ওয়াইএসএসই) এর প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি। ওয়াইএসএসই হলো  একটি যুব নেতৃত্বাধীন অলাভজনক সংস্থা যা সামাজিক উদ্যোক্তা প্রচারের মাধ্যমে যুব ও নারীদের ক্ষমতায়নে নিবেদিত। তা ছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) থেকে ফেলোশিপ পেয়েছেন। একদম শুরুতে কাবুলিওয়ালা টি-শার্ট বিক্রয়ের দিকে মনোনিবেশ করেছিল পরবর্তীতে তারা ডায়মন্ড জুয়েলারী, কনজিউমার ইলেক্ট্রনিক্স, ফ্যাশন এবং অন্যান্য লাইফস্টাইল পণ্য, খেলনা সরঞ্জামাদি ইত্যাদির মতো পণ্য বিভাগ প্রসারিত করে। এটি নানা উৎসবেও তাদের পণ্য ক্রেতাদের জন্য নিয়ে আসে। বর্তমানে গ্রাহকদের জন্য তাদের ৫০০০ টিরও বেশি পণ্য লাইন রয়েছে। দ্রুতগতির গ্রাহক সেবা, অনলাইন শপিং এর প্রকৃত বন্ধু, শৈলী অনুসারে প্রচলিত কাস্টমাইজিং, রিটেইল গন্তব্যের প্রবেশদ্বার, ডেলিভারির বিষয়ে দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত প্রবণতা ও নির্ভরতা পদ্ধতির সহায়তা প্রতিষ্ঠানটিকে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র করে তুলেছে। তাদের ব্যবসায়ের কাঠামো অনলাইন রিটেইল মডেলের উপর ভিত্তি করে নির্মিত। তবে ধারণা করা যায় অদূর ভবিষ্যতে তাদের একটি মার্কেটপ্লেস এবং জনপ্রিয় রিটেইল ব্র্যান্ড হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। তাদের প্রয়াস বিশ্বব্যাপী কেনাকাটা করার জন্য সৃজনশীল ফ্যাশন এবং রিটেইল কেনাকাটার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা। এটি পণ্যের গুনাগুণ ও মান ধরে রাখতে একদম ছাড় না দেয়া নীতি অনুসরণ করে যা কাবুলিওয়ালাকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দ্রুত বর্ধনশীল অনলাইন রিটেইল ব্যান্ড হিসেবে অন্যতম করে তোলে, যার পণ্য এবং পরিসেবাগুলি দেশব্যাপী অনলাইন ক্রেতাদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। কাবুলিওয়ালা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড হলো কাবুলিওয়ালা ডট কমের নিবন্ধিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম। "কাবুলিওয়ালা" এবং "কাবুলিওয়ালার লোগো", অন্যান্য কাবুলিওয়ালার ট্রেডমার্ক, পরিসেবার চিহ্ন, এবং কপিরাইটের অধিকারগুলি কাবুলিওয়ালা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের অধীনে রয়েছে। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে, কাবুলিওয়ালা আরবীয় স্টাইলের উপর ভিত্তি করে ছেলেদের জন্যে ব্র্যান্ড "লাক্সারি মেন্স ক্লথিং স্টোর" চালু করেছিল, যেখানে গ্রাহকরা কেনাকাটায় রাজকীয়তা  খুজে পায়। কাবুলিওয়ালাকে মূলত বাংলাদেশের আধুনিক কাবলি স্যুট ভিত্তিক ধারণার পথিকৃৎ বলা হয়। এটি বর্তমানে কাবুলিওয়ালার নিজস্ব লেবেলের অধীনে পুরুষদের জন্য ডিজাইনার পোশাক উৎপাদন করছে, পাশাপাশি সরবরাহকারীদের তাদের পণ্যগুলিকে কাবুলিওয়ালার স্টোরে প্রদর্শন করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। এছাড়াও ২০১৬ সালে, তারা "কাবুলিওয়ালা সোশ্যাল টেক কেয়ার" নামে একটি প্রকল্প চালু করেছিল- যেখানে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষার জন্য উপযোগী স্কুল কিট সরবরাহ করা হয়েছিল। এছাড়া শীতকালে দুর্ভোগে পড়ে থাকা এবং অসহায় জীবন যাপনকারী গরিব মানুষের মাঝে দেশব্যাপী ৫০০০ টি কম্বল বিতরণ করে। ওয়াইএসএসইয়ের সাথে যুক্ত হয়ে  কোভিড -১৯ মহামারী ছড়িয়ে পড়ার সময় তারা ১০০ টি পরিবারের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, ১০০ জন দুস্থ ও অভাবী মানসিক বিকারগস্ত মানুষের মধ্যে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেছে, ৫ টি এতিমখানায় ইফতারের আয়োজন করেছে। ২০১৭ সালে,তারা "উদ্যোক্তাদের জন্য কাবুলিওয়ালা", একটি বিশেষ কর্মসূচী (ওয়াইএসএসইয়ের সহযোগিতায়) চালু করে ছিল – যার মূলনীতি হল যুব উদ্যোক্তাকে অনুপ্রাণিত করা, হাতে কলমে ট্রেনিং দেয়া, অভিজ্ঞদের পরামর্শ দেওয়ার মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করা। এটি ওয়াইএসএসই এর কল্যাণে নেক্সট জেনারেশন কার্নিভাল -২০১৭,, সামাজিক উদ্যোক্তা সামিট -২০১৮, ডিজিটাল বিপণন মাস্টারমাইন্ড, বাংলাদেশ যুব সিম্পোজিয়ামের মতো ক্যাম্পাস ভিত্তিক কর্মসূচী ইত্যাদির ইভেন্টগুলিকে স্পন্সর করে আসছে এবং এই কর্মসূচির মাধ্যমে এক লাখেরও  বেশি শিক্ষার্থী উপকৃত হয়েছেন। ২০২০ সালের এপ্রিলে "কাবুলিওয়ালা ফ্রেশ" নামে একটি নতুন গ্রোসারী মার্ট কার্যক্রম চালু হয় যা বর্তমানে শুধু মিরপুর কেন্দ্রিক অপারেশন পরিচালিত হচ্ছে তবে শীঘ্রই পুরো ঢাকা মেট্রো জুড়ে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই দিন এবং খুব ভোরে গ্রাহকদের কাছে নিত্য-প্রয়োজনীয় পণ্য প্রতিদিন পৌঁছে দেয়া আগের চেয়ে গ্রাহকদের প্রত্যহ বাজার অনবদ্য ও সহজতর করে তুলেছে। গ্রাহকরা এই গ্রোসারী মার্ট কার্যক্রম থেকে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় মুদি বাজার এমনভাবে অর্ডার করতে পারেন যাতে সময় সাশ্রয় হয়, ভিড় এড়ানো যায় এবং নিজস্ব-স্বাধীনতা অনুযায়ী একটি বাছাইকৃত সময়ে বিশাল গ্রোসারী পুল থেকে পণ্য বেছে নেওয়া যায়। কৃষককে সমর্থন করা, কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য পেতে পারে এবং গ্রাহকদের তাজা ও ফরমালিন্ মুক্ত অপরিশোধিত খাদ্য সামগ্রী কেনার সুযোগ পায় এটাই "কাবুলিওয়ালা ফ্রেশ" গঠন করার মুল লক্ষ্য। কৃষক ও কৃষকদের কল্যাণ সমবায়গুলির উৎকর্ষ সাধনে কাজ করা এবং এটা নিশ্চিত করা যে কৃষকরা রিটেইল লভাংশের বেশির ভাগ অংশ নিজেদের অনুকুলে রাখতে পারে। ক্রেতা সাধারণ ওয়েবসাইট, ডাইরেক্ট কলিং, বা ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে তাদের নিকট পণ্যের অর্ডার করতে পারবে এবং তাদের স্টোর / হাব পয়েন্টগুলিতে যেয়ে সরাসরি অর্ডার করতে পারবে। ক্রেতা সাধারণ এর পেমেন্ট করার জন্য রয়েছে ক্যাশ অন ডেলিভারি , কার্ড অন ডেলিভারি, মাস্টারকার্ড, ভিসা, বিকাশ, রকেট, নগদ ইত্যাদি সুবিধাসমূহ। কাবুলিওয়ালার পথচলা এই পর্যন্ত বেশ প্রশংসনীয়। এই দীর্ঘ পথচলায় অনলাইনে কেনাকাটার অনেক বাধা বিপত্তি এবং চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে এটি নিজেকে ইকমার্স জগতে একটি সুদৃঢ় অবস্থানে উন্নীত করতে পেরেছে - যেখানে সম্মানিত ক্রেতা সাধারণ স্বাচ্ছন্দ্যে শপিং করতে সক্ষম।

POST COMMENT

For post a new comment. You need to login first. Login

COMMENTS(0)

No Comment yet. Be the first :)