শনিবার ৩১ জুলাই ২০২১

১৬ শ্রাবণ ১৪২৮

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্চ ২৯,২০২০, ০৭:৫২

করোনা নিয়ে ইতিহাস বিখ্যাত চার টেনিস খেলোয়াড়

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা হিসেবে পরিচিত টেনিস। ব্যয়বহুল যে’কটি খেলা আছে তার মধ্যে লং টেনিস একটি। গ্যালারিতে হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে একক কিংবা দ্বৈত খেলোয়াড়ের মধ্যকার প্রতিযোগিতায় খেলাটি সম্পন্ন হয়। আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশনের পরিচালনায় বিশ্বে চারটি মেগা টুর্নামেন্ট এর মধ্যে উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ানশীপ, অস্ট্রলিয়া ওপেন, ফ্রেঞ্চ ওপেন এবং ইউএস ওপেন যেগুলো বছরের নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। (নোভাক জকোভিচ) গৃহযুদ্ধ ও বিভক্তির ফলে নিজের মনোবলকে আরো দৃঢ় করতে পেরেছিলেন বলেই আজ তিনি বিশ্বসেরা টেনিস খেলোয়াড়। পারিবারিক সূত্রে টেনিস ক্লাবে মাত্র ৪ বছর বয়সে টেনিসের র‌্যাকেট হাতে তুলে নেন বিশ্বসেরা সার্বিয়ান তারকা। ৩০ বছরে জিতেছেন ১৩টি গ্রান্ড স্ল্যাম যেটি একদমই সহজ ছিলো না কিংবদন্তি খ্যাতি পাওয়া এ তারকার জন্য। ১৩ বছর বয়সে জার্মানির মিউনিখে পাইলিক ক্লাব থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়ে ১৪ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরু করেন নোভাক জকোভিচ। ২০০৭ সালের মৌসুমে শীর্ষস্থানীয় টেনিস তারকা রজার ফেদারার, রাফায়েল নাদাল ও অ্যান্ডি রডিককে পরাজিত করে মন্ট্রিয়েল শিরোপা জেতেন। এরপরে ২০১১ সালের ঘটনা ইতিহাস সাক্ষী, এক সারিতে ৪৩টি ম্যাচ জিতে সাড়া ফেলে দেন টেনিসপ্রেমীদের মাঝে। একই বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, উইম্বলডন চ্যাম্পিয়নশীপ এবং ইউএস ওপেন জিতে র‌্যাংকিয়ে বিশ্বের এক নম্বর টেনিস খেলোয়াড় বনে যান তিনি। ২০১১ সাল থেকে টানা ২২৩ সপ্তাহ সময় ধরে টেনিস বিশ্বে প্রথম অবস্থান ধরে রেখে একচেটিয়া রাজত্ব করেন নোভাক জকোভিচ। এটিপি র‌্যাংকিয়ে বর্তমানে তিনি বিশ্বসেরা। সর্বকালের সেরা ১০জন টেনিস তারকার একজন ভাবা হয় এই নোভাক জকোভিচকে। এর পাশাপাশি রেস্টুরেন্ট, হোটেল ও হসপিটাল ব্যবসায়ের সাথে সম্পৃক্ত আছেন এ তারকা। করোনা মোকাবিলায় নোভাক জকোভিচ তার ইন্সটাগ্রামে ভক্তদের উদ্দেশ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আহবান করেন এবং তিনি নিজেও সেটা করছেন বলে জানিয়েছেন। এর মাধ্যমেই ধীরে ধীরে সারা বিশ্ব জুড়ে করোনার বিস্তার কমিয়ে আনা সম্ভব। একই সাথে তিনি মেডিকেল স্টাফদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এটা আমাদের সকলের জন্য চ্যলেঞ্জিং একটা সময়। আমি সকলের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছি ও প্রার্থনা করছি। দয়া করে সবাই ঘরে থাকুন এবং সকল মেডিকেল স্টাফদের সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসুন। এই সংকটময় মুহুর্তে তাদের ওপর আর বোঝা বাড়াবেন না। (সেরেনা উইলিয়ামস) একদিন জন্মগ্রহন করেছিলেন ফ্লোরিডার পাম বিচ গার্ডেনে। কে জানতো সে একদিন ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখাবে। এখন তিনি আমেরিকান পেশাদারি টেনিস খেলোয়াড়। জনপ্রিয় এ খেলায় মেধা ও সামর্থ্যের জানান দিয়ে টেনিস তারকা হিসেবে নিজেকে নিয়ে গেছেন কিংবদন্তির কাতারে। পুরো টেনিস খেলোয়াড়ি জীবনে জিতেছে ৭২টি শিরোপা। তাঁর ঝুলিতে ২৩টি গ্রান্ড স্ল্যাম, অলিম্পিকে ৪টি স্বর্ণপদকসহ নারী খেলোয়াড় হিসেবে সবচেয়ে বেশি প্রাইজমানি অর্জন করেছেন। নারী টেনিস তারকার মধ্যে যেকজন আকাশচুম্বী সাফল্য অর্জন করেছেন তাদের মধ্যে সেরেনা উইলিয়ামস একজন। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে সেলেনা বলেছিলেন, “আমি একটি বিষয়-ই জানি। তা হলো, কঠোর পরিশ্রম। আমি আমার কোচের সাথে দিনে চার ঘন্টা টেনিস কোর্টে সময় দিই জানার পর অনেকে প্রশ্ন করেছে ‘তুমি কি পাগল?’ আমার উত্তর হল- না, আসলে আমি একাগ্রতার সাথে কাজ করি। আমি আসলেই কঠোর পরিশ্রম করি। আপনার যদি পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকে তাহলে, সবকিছুই আপনার নিকট ছুটে আসবে” করোনা ভাইরাসে আতঙ্কিত সেরেনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে বলেন, দীর্ঘ একটা সময় সমাজ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে মেয়ে অলিম্পিয়া ও নিজেকে। সম্ভবত দু’সপ্তাহ হয়ে গেল এই নিয়মেই চলছি। নানা রকম খবর শুনছি। আর তাতে আমার আশঙ্কা বাড়ছে। আরো বলেন, কেউ হাঁচি দিলে বা কাশি দিলেই আমাকে আতঙ্ক তাড়া করছে। এমনকি মেয়েকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে বের হচ্ছি না। ছোট অলিম্পিয়া যদি হঠাৎ কাশি দেয় তাহলে আমি ওর দিকে কোনাকুনি তাকাচ্ছি। এতেই ও বুঝতে পারছে, মা রেগে গিয়েছে, পরে অবশ্য খারাপও লাগছে। সংক্রমনের বিরুদ্ধে আমার কিভাবে লড়াই করতে হবে তা আমার জানা নেই। সামাজিক জীবন থেকে দূরে থাকায় আমি বিশ্রামে নেই বরং এতে আমার আরও বিষণ্নতা বাড়ছে। (রজার ফেদারার) ইতিহাসে সবচেয়ে সফল টেনিস খেলোয়াড়দের মধ্যে তিনি অন্যতম। ১৯৯৮ সালে জুনিয়র উইম্বলডন খেলোয়াড় হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। মাত্র ৮ বছর বয়সেই শুরু করেন পেশাদারী টেনিস খেলা, শৈশবে সম্ভাবনাময়ী ফুটবলার ছিলেন তিনি। একসময় সেনাবাহিনীতে সেবা দান করলে পরবর্তীতে সেখান থেকে বাদ পড়েন। বলছি সুইস জাদুকর সর্বকালের সেরা টেনিস খেলোয়াড় রজার ফেদারারের কথা। টেনিস কোর্টে ভদ্র খেলোয়াড় হিসেবে আমরা যে ফেদারারকে দেখি পেশা জীবনের শুরুর দিকে তিনি মোটেও এমন ছিলেন না। খেলার চেয়ে বরং তিনি রাগের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। ক্যারিয়ারের ৩০টি ফাইনালের ২০টি গ্রান্ড স্ল্যাম জিতে নেন তিনি। ইতিহাসে সর্ব্বোচ্চ ৩০৩ সপ্তাহ টানা নাম্বার ওয়ান থাকার রেকর্ড গড়েন ফেদারার। একের পর এক সাফল্য তাকে নিয়ে গিয়েছে পেশাজীবনের সর্ব্বোচ্চ পর্যায়ে। অসহায় ও দুঃস্থ মানুষকে সহযোগিতার জন্য ২০০৩ সালে গড়ে তোলেন ফেদারার ফাউন্ডেশন। বর্তমানে করোনা ভাইরাস নিয়ে সাবেক বিশ্বসেরা এ টেনিস তারকা সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘দিনে অনেকবার আমি হাত ধুচ্ছি ও ঘরেই আছি। এই সময়ে বয়স্ক ও অসুস্থ্যদের প্রতি নজড় দেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে আমরা কেউ হ্যান্ডশেক করবো না, একে অপেরর সাথে অন্তত দুই মিটার দূরত্ব বজায় রাখবো। এটা খুবই কঠিন সময় এবং আশা করছি সবাই বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে। (মারিয়া শারপোভা) রুশ তারকা মাত্র ৬ বছর বয়সেই বাবার হাত ধরে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়। আবার যখন টেনিস খেলা শুরু করেন তখন নেটের উল্টো দিকে দাড়ানো সবাই তার থেকে বয়সে বড় ছিল। সুইট সিক্সটিন গন্ডি পেরিয়ে সদ্য সতেরোয় পা দেওয়া তরুনীর দ্যুতিতে ঝলছে যায় পুরো টেনিস দুনিয়া। ২০০৪ সালে উইম্বলডন ফাইনালে সেরেনা উইলিয়ামস কে হারিয়ে শারপোভা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন প্রাণোচ্ছল এক তরুনীর আর্বিভাব হয়েছে টেনিস কোর্টে। মাত্র আঠারো বছর বয়সে বনে যান বিশ্বের ১ নম্বর খেলোয়াড়। গত ফেব্রুয়ারিতে মারিয়া শারপোভা ভোগ ম্যাগাজিনে লেখেন ‘টেনিস, আমি তোমাকে বিদায়’। টেনিসের পাশাপাশি মডেল হিসেবেও খ্যাতির শীর্ষে রয়েছেন তিনি। র‌্যাম্পে আগুন ধরিয়েছেন বহুবার। রুশ সুন্দরী হাজারো তরুনের ক্রাশ। নিজেকে প্রণয় সম্পর্কে জড়িয়েছেন বারবার। টেনিস থেকে অবসর নেওয়ার পরে তাকে আর গনমাধ্যমের সামনে দেখা যায়নি। জানাননি নতুন কোনো খবর। তবে বিদায় বেলায় সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, পরিবারের সঙ্গে নিভৃতে সময় কাটাব। সকালে উঠে অলসতার সঙ্গে কফির কাপে চুমুক দেব। ছুটির দিনে অচেনা জায়গায় হারিয়ে যাব। আর পছন্দের নাচের ক্লাস তো আছেই। ঢাকা/এআই

POST COMMENT

For post a new comment. You need to login first. Login

COMMENTS(0)

No Comment yet. Be the first :)